April 19, 2026, 1:48 pm

সোনারগাঁওয়ে ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবকের লাশের পরিচয় সনাক্ত

সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজর ইউনিয়ন একটি ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় সনাক্ত।

চাকরিতে যোগদান করতে গিয়ে পরিবারের মাঝে আর ফিরে আসা হলো না জয়পুরহাটের মেধাবী ছাত্র সাগর ইসলামের।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাকে হত্যা করে নারায়ণগঞ্জের একটি ব্রিজের নিচে ফেলে যায়।
মরদেহ দাফন হওয়ার এক সপ্তাহ পর ছেলের মৃত্যুসংবাদে শোকের মাতম পড়ে গেছে সাগর ইসলামের বাড়িতে। পুলিশ বলছে, ইতোমধ্যেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ঢাকার শ্রীপুর থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
সন্তানের মৃত্যুর সংবাদে মা আলেয়া বেগমের বুক ফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। স্বজনদের কোনও সান্ত্বনা যেন তাকে থামানো যাচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৪ মাস আগে পাঁচবিবি উপজেলার উচনা গ্রামের আব্দুর রউফসহ ৪ প্রতারক সাগরকে মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার বাবা আব্দুর রশিদের সঙ্গে ৭ লাখ টাকার চুক্তি করে। জমি ও গরু বিক্রি করে পর্যায়ক্রমে ৭ লাখ টাকা হাতে দেওয়ার পর তারা সাগরকে একটি নিয়োগপত্র তুলে দেয়।
এরপর তাদের কথা অনুযায়ী, গত ২৩ মার্চ সাগরকে ঢাকায় পৌঁছে দেয় তার বাবা।
পরে পুলিশ ২৫ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার খংশারদি ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে অজ্ঞাতপরিচয়ে দাফন করে।
এরপর মোবাইল ফোনের সিম কার্ডের আইডেন্টিটি অনুযায়ী পাঁচবিবি থানায় যোগাযোগের মাধ্যমে সাগরের মরদেহ শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় জন প্রতিনিধি।
স্থানীয় পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব জানান, সোনারগাঁও থানা পুলিশের ইনফরমেশন অনুযায়ী সাগরের পরিচয় শনাক্ত করে তার বাবাকে মরদেহ গ্রহণের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার পর ইতোমধ্যেই ঢাকার শ্রীপুর থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার সাগর ইসলামের পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, এই চক্রের সদস্যরা হলেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী উচনা গ্রামের আব্দুর রউফ, হরেন্দা গ্রামের গোলাম রাব্বানী, আব্দুল আলীম ও জয়পুরহাট শহরের রবি

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা